যশোরে কেনাকাটায় মানুষের ঢল, বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি

টানা ৪৪ দিন পর যশোরে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে সীমিত পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। রোববার প্রথম দিনই কেনাকাটার জন্য শহরে মানুষের ঢল নামে। সোমবারও দেখা গেছে একই দৃশ্য। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক কিংবা শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। যশোর শহরের এইচএমএম রোড, এমকে রোড, কালেক্টরেট মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ও সংলগ্ন সড়কে উপচেপড়া ভিড় ছিল। সোমবার সকাল থেকে কাপড়ের দোকানে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

রাকিবুল নামে এক ক্রেতা বলেন, মার্কেট খোলার খবর শুনে এসেছি, ভেবেছিলাম লোকজন কম হবে। এজন্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। এসে দেখি লোকের উপচেপড়া ভিড়। এইচএম ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী রাফিউল আলম বাবু জানান, জেলা প্রশাসনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে দোকান খোলা হয়েছে। তবে ক্রেতাদের অনেকেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। এমএম রোডের ছিট সম্ভারের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান কবির শিপলু বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা হয়েছিল।

প্রথম দিনেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু বলেছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য আমরা শনিবার মানববন্ধন করেছি। শহরে বের হয়ে দেখলাম মানুষের ঢল। সরকার জনগণকে বিপদে ফেলে দিচ্ছে। আর জনগণ সচেতন নয়। সোমবার বিকালে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, জেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং করছে।

শর্ত না মানায় রোববার দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। সোমবারও জেলা প্রশাসনের লোক মাঠে আছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করছি। মাইকিংও করা হয়েছে। আবদুস সালাম নামে এক স্কুল শিক্ষক জানান, এই পরিস্থিতিতে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হয়নি। এবার মনে হয় করোনা সংক্রমণ আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশ কিছু শর্ত দিয়ে শনিবার জেলা প্রশাসনের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোববার সকাল ১০ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়।

About admin

Check Also

লকডাউনে লঞ্চ মালিকদের ৩১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি

করোনাভাইরাস প্রকোপ রোধে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় লঞ্চ মালিকদের ৩১০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *